এইমাত্র
  • বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনা হবে: তারেক রহমান
  • আজ থেকে ভোটের মাঠে মোতায়েন হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
  • শতাধিক গুম-খুনের মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ
  • হজের ভিসা দেয়া শুরু হচ্ছে আজ
  • থাইল্যান্ডে আজ সংসদ নির্বাচন, হবে গণভোটও
  • এবার রোজা হবে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ ঘণ্টা
  • ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে: সালাহউদ্দিন
  • কুমিল্লাকে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করা হবে: মনির চৌধুরী
  • আগামী এক সপ্তাহ খুবই ক্রুশিয়াল: প্রধান উপদেষ্টা
  • এবার কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না: ইসি মাছউদ
  • আজ রবিবার, ২৫ মাঘ, ১৪৩২ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    হবিগঞ্জ–১

    বিএনপির প্রার্থী রেজার ‘গলার কাঁটা’ বিদ্রোহী সুজাত

    মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
    মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

    বিএনপির প্রার্থী রেজার ‘গলার কাঁটা’ বিদ্রোহী সুজাত

    মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসন হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জ–১ (বাহুবল–নবীগঞ্জ)। এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী, সদ্য দলে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠে তার অবস্থান এখনো শক্ত।

    প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।

    এ ছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

    তবে এই আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ–১ আসন ঘিরে।

    নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী থাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট।

    পদ হারানোর আশঙ্কায় অনেক নেতা প্রকাশ্যে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে থাকলেও মাঠে অনেক কর্মীকে শেখ সুজাত মিয়ার সঙ্গেও দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আসনটিতে রেজা ও সুজাতের মধ্যে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

    স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোনো দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকলেও নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাতই এখন ড. রেজা কিবরিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ‘গলার কাঁটা’।

    প্রথমদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন—এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় তিনি আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।

    অনেকের ধারণা, জামায়াতের কিছু ভোটও শেখ সুজাত মিয়ার ঝুলিতে যেতে পারে। সে কারণেই এই আসনে তাঁর অবস্থান বেশ শক্ত বলে মনে করছেন ভোটাররা।

    জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ সুজাত মিয়া। এরপর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। এবার তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।

    মনোনয়নপত্র দাখিলের পর তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী মাঠে থেকে যান। কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সংসদে যেতে চান শেখ সুজাত মিয়া।

    অন্যদিকে, সদ্য বিএনপিতে যোগ দিয়েই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তাঁর পিতা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হওয়ায় এলাকাতেও রয়েছে পারিবারিক জনপ্রিয়তা। এ কারণে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

    হবিগঞ্জ–১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…